গুম খুনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন শেখ হাসিনা – তারেক রহমান

লন্ডন ২৮ মে : বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারপার্সন তারেক রহমান বলেছেন, দেশে গুম খুনের সঙ্গে খোদ শেখ হাসিনা প্রত্যৰ কিংবা পরোৰাভাবে জড়িয়ে পড়েছেন৷ এখন আর কারো জীবনই নিরাপদ নয়৷ র্যাবকে পরিণত করা হয়েছে আওয়ামী রৰী বহিনীতে৷ তাই নিজে বাঁচতে, পরিবারকে বাঁচাতে, দেশ ও জনগনকে বাঁচাতে কঠোর গনআন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে৷ খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অবৈধ সরকারের বিরম্নদ্ধে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়তে হবে৷ লন্ডনে ইলফোর্ডের প্রভা ব্যাংকুইটিং অডিটরিয়ামে আয়োজিত “বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের ৩৩তম শাহাদত বার্ষিকী” শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন৷ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী উপলৰে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত ৮ দিনব্যাপী কর্মসূচীর প্রথম দিনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান৷ দর্শকসারিতে বসেই পুরো অনুষ্ঠান শুনেন তারেক রহমান৷ তবে নেতাকমর্ীদের অনুরোধে শেষ পর্যনত্ম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন তিনি৷ প্রায় আধাঘন্টার বক্তৃতায় তারেক রহমান র্যাব বিলুপ্ত করা, পাকিসত্মানী পাসেপোর্ট নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে শেখ মুজিবের ফিরে আসা, গুম খুনের সঙ্গে শেখ হাসিনার সংশিস্নষ্টতা, স্বাধীনতা পরবর্তী শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলের সঙ্গে শেখ হাসিনার র দুঃশাসনের শাসনের চিত্র, ৫ জানুয়ারীর তথাকথিত নির্বাচন এবং নির্বাচন কমিশনের ভুমিকা নিয়ে বিসত্মারিত আলোচনা করেন৷ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সভাপতি শায়েসত্মা চৌধুরী কুদ্দুস৷ সভা পরিচালনা করেন যুক্তরাজ্য বিএনপি সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদ৷ অনুুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ডক্টর এম এ মালিক, বগুড়া জেলা বিএনপি’র সভাপতি ভিপি সাইফুলসহ দলের বিভিন্নসত্মরের নেতাকমর্ীরা৷

 

অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী দুঃশাসনে জনগনের অবস্থা এতটাই ভয়ংকর অবস্থায় পৌছেছে যে, জনগণ বলতে শুরম্ন করেছে, “ওরা মানুষ নয়, আওয়ামী লীগ”৷ তিনি বলেন, এমন কোন অপকর্ম নেই যা আওয়ামী লীগ করতে পারেনা৷ উদাহরণ দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, যেই আওয়ামী লীগ শেখ মুজিবকে নেতা বানিয়েছে ৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী সেই আওয়ামী লীগকে গলাটিপে হত্যা করতেও তিনি দ্বিধাবোধ করেননি৷ নারায়নগঞ্জে সাতজনকে গুম করার পাঁচ মিনিটের মধ্যে জানলেও নিজদলের নেতাকমর্ীদের বাঁচাতে কোন পদৰেপ নেননি শেখ হাসিনা৷ তিনটি ঘটনা উলেস্নখ করে তারেক রহমান বলেন, এর প্রতিটি ঘটনা প্রমান করে দেশে চলমান গুম খুনের সঙ্গে খোদ শেখ হাসিনা প্রত্যৰ কিংবা পরোৰাভাবে জড়িয়ে পড়েছেন৷ তারেক রহমান বলেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রম্ননীর নির্মম হত্যাকান্ডের পর তত্‍কালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যেই হত্যাকারীরা ধরা পড়বে৷ এরপর হাজার ঘন্টা পার হলেও এই ঘটনার রহস্য বের হয়নি৷ সেই সময় তত্‍কালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সাগর রম্ননী হত্যা মামলার তদনত্ম সরাসরি তত্ত্বাবধান করছেন শেখ হাসিনা৷ প্রশ্ন্ন হলো শেখ হাসিনা নিজে একটি হত্যাকান্ডের তত্তা্ববধান করার পরও মামলার রহস্য বের না হওয়ায় প্রমাণ করে “ডাল মে কুচ কালা হ্যায়”৷ তিনি বলেন, ২৭ এপ্রিল নারায়নগঞ্জে সাতজনকে দিনে দুপুরে অপহরণ করে হত্যা করে লাশ ফেলে দেয়া হয় নদীতে৷ ওই এলাকার আওয়ামী লীগেরই একজন অনির্বাচিত এমপি জানিয়েছেন, পাঁচ মিনিটের মধ্যে তিনি শেখ হাসিনাকে অপহরনের ঘটনা জানিয়েছেন৷ শেখ হাসিনাকে জানানোর পরও অপহৃতদের উদ্ধার করতে ব্যর্থ হওয়ায় এইসব হত্যাকান্ডের সঙ্গে সংশিস্নষ্টতার দায় শেখ হাসিনা কোনভাবেই এড়াতে পারেন না৷ তারেক রহমান বলেন, ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার নির্বাচিত চেয়ারম্যান একরামকে প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে গুলী করে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়৷ বিকেলেই শেখ হাসিনার অফিস থেকে হত্যাকান্ড সম্পর্কে বিরোধী দলকে জড়িয়ে বিবৃতি দিয়ে আইন শৃংখলাবাহিনীকে বিভ্রানত্ম করার অপচেষ্টা করা হয়৷ অথচ ওই ঘটনায় যারাই গ্রেফতার হয়েছেন তারা সবাই আওয়ামী লীগেরই নেতাকমর্ী৷ তাই শেখ হাসিনার এই অপতত্‍পরতা সম্পর্কে জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে৷

তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের কথায় কাজে মিল নেই৷ আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিব তার ৩০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে যেখানে ব্যর্থ হয়েছেন সেখানে মাত্র পাঁচ বছরের রাজনৈতিক জীবনে সবখানেই সফল হয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান৷ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি৷ দেশকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে এনেছেন৷ বহুদলীয় গনতন্ত্র প্রবর্তন করেছেন৷ আজকে রেমিটেন্স এবং গার্মেন্টস সেক্টরের যে বিকাশ তাও শুরম্ন হয়েছিলো জিয়াউর রহমানের শাসনামলে৷ মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের শ্রমবাজারও উন্মুক্ত হয়েছিলো জিয়াউর রহমানের সময়৷ তিনি বলেন, বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য, ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিব জনগণের লড়াই সংগ্রাম এবং কঠিন আত্মত্যাগ দেখেননি, অথচ স্বাধীনতার পর পাকিসত্মানী পাসপোর্ট নিয়ে তিনিই সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে এসে ৰমতায় বসেন৷ স্বাধীনতা যুদ্ধে মা ভাই কিংবা আত্মীয় স্বজন হারানো যেইসব মানুষ ৭২ সালের ১০ জানুয়ারী স্বাধীন বাংলাদেশে শেখ মুজিবকে স্বাগত জানাতে এয়ারপোর্টে গিয়েছিলেন তাদের সামনে শেখ মুজিব আসেন পকেটে পাকিসত্মানী পাসপোর্ট নিয়ে৷ একটি সদ্য স্বাধীন দেশের নাগরিকদের সাথে এর চেয়ে বড় প্রতারণা আর কি হতে পারে? তিনি বলেন, শেখ মুজিব ১৯৭৫ সালে মাত্র কয়েকমিনিটে গনতন্ত্রকে হত্যা করেন, নিজ দল আওয়ামী লীগকে বিলুপ্ত করেন৷ জনগনকে ৭৪ এর দূর্ভিৰ উপহার দেন৷ তার শাসনামলে ঘরে বাইরে জনগনকে অনিরাপদ করে তোলা হয়েছিলো৷ বক্তৃতায় তারেক রহমান ১৯৭৩ সালের ৬ জুলাই জাতীয় সংসদে দেওয়া তত্‍কালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি বিবৃতি তুলে ধরে বলেন, ‘১৯৭২ সালের জানুয়ারি থেকে ১৯৭৩ সালের জুন পর্যনত্ম এই সময়কালে দেশে ২ হাজার ৩৫টি গুপ্তহত্যার ঘটনা ঘটেছে এবং দুষ্কৃতিকারীদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ হাজার ৯শ’ ২৫ জন৷ তারেক রহমান বলেন, তার কন্যা শেখ হাসিনার শাসনামলেও একইভাবে গুম খুন অপহরণ অব্যাহত রয়েছে৷ তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এবং সন্ত্রাস যেন একইমুদ্রার এপিঠ ওপিঠ৷ তারেক রহমান বলেন, গুম খুণ অপহরণ এখন দেশের নিত্যদিনের চিত্র৷ তিনি বলেন, সন্ত্রাস দমনে বিএনপির শাসনামলে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো এলিট ফোর্স র্যাব৷ র্যাব প্রতিষ্ঠার পর দেশের সাধারণ মানুষ স্বসত্মির নিংশ্বাস ফেলেছিলো আর সন্ত্রাসীরা ছিলো আতংকে৷ অথচ আওয়ামী লীগের অবৈধ শাসনামলে র্যাবের ভয়ে সাধারণ মানুষ আতংকে আর সন্ত্রাসীরা নিরাপদে৷ এখন আওয়ামী সন্ত্রাসীদের পৰ হয়ে র্যাব টাকার বিনিময়ে মানুষ খুন করে, গুম অপহরণ করে, এই অভিযোগ সাধারণ মানুষের৷ বিরোধী দলকে দমনের জন্য কারো মেয়ের জামাই, কারো ভাই আত্মীয় স্বজন কিংবা দলীয় ক্যাডার দিয়ে র্যাবকে পরিণত করা হয়েছে শেখ হাসিনার রৰীবাহিনীতে৷ জনগণের কাছে আওয়ামী রৰীবাহিনীর বিকল্প হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই র্যাবের প্রতি জনগণের আর বিন্দুমাত্র আস্থা নেই৷ এই র্যাবকে বিলুপ্ত করা এখন জনগণের দাবী৷ অনুষ্ঠান শেষে র্যাবের বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ও নির্মম নিযর্াতন নিয়ে “ক্রসফায়ার” নামে ১৪ মিনিটের একটি তথ্য চিত্র প্রদর্শিত হয়৷ একইসঙ্গে প্রথম স্বাৰর দিয়ে “ডিজব্যান্ড র্যাব” নামে দেশেবিদেশে স্বাৰর সংগ্রহ অভিযান কর্মসূচী শুরম্ন করা হয়৷

www.disbandrab.com

আলোচনা সভায় কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম এ মালিক বলেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের সব্র্বোচ্চ আদালত রংহেডেড পার্সন আখ্যা দিয়েছিলো৷ তিনি বলেন, মানসিকবিকারগ্রস্থ শেখ হাসিনার বিরম্নদ্ধে আন্দোলনের বিকল্প নেই৷
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি’র আনত্মর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মুহিদুর রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিয়া মনিরম্নল আলম, ইউরোপভিত্তিক প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংগঠন সিটিজেন মুভমেন্ট এর আহবায়ক এম এ মালিকসহ অনেকে৷

শেয়ার করুন

Leave Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *